দেশের রাষ্ট্র,সমাজ, দেশের মানুষের কাছে –
সন্তান হত্যার বিচার চাই !
আর না হয়
আমার সন্তান ফেরত চাই!!
================================================
তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে – শিক্ষার্থী – অভিভাবক
নির্মম হত্যার বিচার না চেয়ে, ঘাতকদের গ্রেফতার না চেয়ে – অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে সেই ঘাতকদের !! কাল যখন আপনার সন্তান এইভাবে খুন হবে? চোখ বন্ধ করে ১ সেকেন্ড ভাবুন কাল কোনো শিক্ষার্থী বা আপনি বা আপনার সন্তান খুন হলে !!
অথচ যারা আমার সন্তান আদনান তাশিন কে ডেকেনি চিনে না তারা – তা হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় নাম- গুলশান কলেজ, পিওনের ডেন্টাল,বারিধারা স্কুল, গুলশান স্কুল, কালাচাঁদপুর, প্রাইম স্কুল, গুলশান কিন্ডারগার্ডেন, বারিধারা কিন্ডারগার্ডেন, ছোট্ট ছোট্ট শিশু, কলেজ ও এলাকা বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
আমি সন্তাকে কলেজে পাঠিয়েছি – মানুষের মতো মানুষ হয়ে ফিরতে,
ফিরলো লাশ হয়ে – কেন সে লাশ হবে? কি পাপ করেছিল সে?
মুহূর্তেই তার সব- ড্রীম -প্রতিভা, মেধা ঘাতকের চাকায় পিষ্ট হলো,
তার নরম তুলতুলে শরীর রাস্তায় পিষে দিল
সে নির্মম ভাবে খুন হলো- রাস্তায় পড়ে ছিল!
ভয়ে আতঙ্কে, যন্ত্রণায়, গগন বিদারী – চিৎকার
পানির পিপাসায় বুক ফেটে যাচ্ছে,
ইচ্ছা করছিলো মা বাবাকে একটু পাশে পেতে,
তার আশা মা বাবা পশে এলে সব কষ্ট বুঝি ধুয়ে যাবে!
ঐদিকে মা তার জন্য ভাত প্লেটে দিয়ে অপেক্ষা করছে আদরের সন্তান এসে ভাত খাবে, মা কিভাবে জানে তার সন্তান বেওয়ারিশ হয়ে রাস্তায় মুখু থুবড়ে পড়ে আছে আর বাঁচতে চাই , বাঁচতে বলে চিৎকার করছে,
পানি পানি বলে চিৎকার করছেপানি পানি বলে চিৎকার করছে !
আরেক অবুঝ শিশু তাকে কুর্মিটোলায় নিল তারা তার চিকিৎসা করলোনা – বললো ঢাকা মেডিক্যালে নিতে হবে – এখানে দুর্ঘটনার রুগীর চিকিৎসা করেন না , আমার সন্তানের বাঁচার জন্য তীব্র যন্ত্রনায় চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে – শিশুর চিৎকার কারো হৃদয়ে সামান্যতম নাড়া দেয়নি , প্রায় ঘন্টা খানিক আমার নিষ্পাপ সন্তান যুদ্ধ করে, পরে কুর্মিটোলা থেকে গলা ধাক্কা খেয়ে , ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে যাত্রা করে আমার আরেক- শিশু সন্তান -দীর্ঘ পথের জন্য তাকে অন্তত অক্সিজেন তো দিতে পারতো -বনানীতে দীর্ঘ জ্যাম, গাড়ির দীর্ঘ লাইন, আর কত যন্ত্রনা সইতে পারে এক শিশু ! তোর তাজা – সর্বদাই হাসি খুশি থাকা টগবগে আমার শিশুটি চির তরে স্তব্দ হয়ে যায় – হটাৎ করে পৃথিবীর সকল বাতাস কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তার শোকে !
কোনো মিডিয়া তার মৃত্যুর খবর প্রচার হয়নি , কারণ, তাদের কলেজ বা সেই কলেজের শিক্ষার্থীরা সবাই চুপ, তার মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের মনে মনে দাগ কাটেনি , তারা নিন্নতম কোনো প্রতিবাদ করেনি – বরং পর দিন কলেজ বন্ধ রাখে যাতে বিষয়টি নিয়ে বেশি জানা জানি না হয় – এবং পরদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষার্থীরা গুজব ছড়িয়ে দেয় – ঘাতক ড্রাইভার হেলপার ধরা পড়েছে – যাতে করে বাহিরের কোনো কলেজের শিক্ষার্থী আমার সন্তানের মর্মান্তিক হত্যার বিচারে রাস্তায় না নামে , হয়তো কলেজ চেয়েছিল , নিজেরা প্রতিবাদ করবে না অন্যরা যেন না করে (হয়তো)
আমার সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সেন্ট জোসেফ কলেজ বা শিক্ষার্থীদের কোনো দায় নেই? আজ আমার সন্তান খুন হয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী , অভিভাবক সবাই চুপ ! একজন শিক্ষার্থী, অবিভাবক এখনো ফোন করেও খবর নেয় নি , অসুস্থ হওয়া সত্বেও আমি প্রিন্সিপালের সাথে কষ্ট করে দেখা করতে যাই, দেখা করতে পারিনি , তার কাছে ফোনে তার সমর্থন চেয়ে পাইনি, শেষে তাকে অনুরোধ করি অন্তত থানায় ফোন করে ওসি কে জিগ্যেস করতে কেন ঘাতকদের ধরা হচ্ছে না, তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন- ওসি র সাথে কথা বললেন না আরেকজন শিক্ষকের কাছে ফোন করে সমর্থন চেয়ে পাইনি – মমত্ব বোধ সহানুভূতি আছে এমন কিছু শিক্ষার্থী – শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে চেয়ে ছিল – সামাজিক মাধম্মে ইভেন্ট দিয়ে সবাইকে জানিয়েছিল – অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়
অনেক আশা নিয়ে তার স্কুলে যাই ( বি এস আই) যেখানে সে ১৭ বছরের জীবনের ১৩টি বছর কাটিয়েছি , অনেক সাফল্য, অনেক অ্যাওয়ার্ড , অনেক মেডেল, সার্টিফিকেট, অর্জন করে – প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করি – তার কাছে তার সমর্থন চেয়ে পাইনি, শেষে তাকে অনুরোধ করি অন্তত থানায় ফোন করে ওসি কে জিগ্যেস করতে কেন ঘাতকদের ধরা হচ্ছে না, তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন- ওসি র সাথে কথা বললেন না
